Main Menu

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন | বাংলারদর্পন

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র উদ্যোগে “২৭তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গত ০৬ মার্চ বুধবার বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি, বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম, চেম্বার সহ-সভাপতি ও মেলা কমিটির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সরওয়ার হাসান জামিল, অঞ্জন শেখর দাশ, হাসনাত মোঃ আবু ওবাইদা, মোঃ শাহরিয়ার জাহান, মোঃ আবদুল মান্নান সোহেল ও তরফদার মোঃ রুহুল আমিন, চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম, অনারারী কনসাল, সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিসিসি কাউন্সিলরবৃন্দ, বিভিন্ন ট্রেডবডি নেতৃবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন-চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন। তাই চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান না হলে সমগ্র দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্থ হবে। চট্টগ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়ে নার্সিং করতে হবে। তাই বাণিজ্য সহায়ক প্রতিষ্ঠান যেমনঃ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী ইত্যাদির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে হওয়া উচিত। বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার এবং বিনিয়োগের জন্য অবারিত দ্বার। তিনি চট্টগ্রামের ব্লু ইকনোমি, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সারা দেশে ২০টন পণ্য পরিবহন করা গেলেও চট্টগ্রাম থেকে কেন ১৩ টনের বেশী পণ্য পরিবহন করা যাবে না তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করার দাবী সমর্থন করেন। তিনি ৫০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সোয়া কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সব কার্যক্রম একই ছাতার নিচে এনে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০, ২০৪১-সহ সকল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বলেন-আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং কেন্দ্রীকরণের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এসব জটিলতা নিরসনে ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাস করার সম্ভব বলে মনে করেন। এছাড়া সারাদেশে প্রত্যেক বিভাগে যেখানে যে সক্ষমতা রয়েছে তার সদ্ব্যবহারপূর্বক সুষম উন্নয়ন ও সারাদেশে অর্থনৈতিকভাবে সমতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

 

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-স্থানীয় শিল্প এবং নতুন উদ্যোক্তারা যাতে তাদের পণ্য প্রদর্শন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে বাণিজ্য মেলার আয়োজন যা কেবল বিকিকিনি নয়, বরং নাগরিকদের জন্য এক বিনোদনের উপলক্ষ। চট্টগ্রামকে ঘিরে লক্ষ কোটি টাকার যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে তা সমাপ্ত হলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি দুই অংকে উন্নীত হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন সম্পন্ন হবে। তিনি বিকেন্দ্রীকরণ, কমপক্ষে পাঁচটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপন, কাস্টম’র জনবল বৃদ্ধি, স্কেনার সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের জন্য গ্রীন চ্যানেল চালু করা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে ১৩টনের বাধ্যবাধকতা পরিহার করার দাবী জানান।

 

 

 

চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন-অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি চেম্বার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করে আসছে। প্রতি বছর লাখো দর্শনার্থীর সমাগমে বন্দর নগরীর এই মেলা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের মাধ্যমে  উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তার বর্ণাঢ্য মিলন মেলায় পরিণত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৭% এর উপরে জিডিপি অর্জন, রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নতুন নতুন মাইলফলক, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভিশন-২০৪১ অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন-ব্যাংকের একটি চেক বই ইস্যু করাও ঢাকার উপর নির্ভরশীল।

 

তিনি এ নির্ভরশীলতা কাটানো এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার ক্ষমতা আঞ্চলিক কার্যালয়কে অপর্ণ করার দাবী জানান। প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং চেম্বার নেতৃবৃন্দ ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রতিদিন সকাল ১০.০০ টা থেকে রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত চলবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *