Main Menu

সুনামগঞ্জে পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ : জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ

নাইম তালুকদার, সুনামগঞ্জ :

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পিআইসি গঠনে অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বরাবরে  দুই কৃষকের আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদের অফিসে কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন শাল্লা উপজেলার আটগাওঁ ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো: রুহুল আমিন ও একই গ্রামের কৃষক দ্বীপক চন্দ্র দাস।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত ২ জানুয়ারী শাল্লা উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটি(পিআইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ও মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করা হয় এবং কালিকোটা হাওরে উপ- প্রকল্পের আওতায় ৬২ নং প্রকল্পে কৃষক রুহুল আমিনকে সদস্য সচিব হিসাবে নাম ঘোষনা করা হয়। নাম ঘোষনার পর কৃষক রুহুল আমিন সকল কাজের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি জানতে পারেন সভায় সিদ্ধান্তকৃত পিআইসিকে কার্যাদেশ না জানিয়ে ৬২নং প্রকল্প থেকে তাকে বাদ দিয়ে এরশাদুল মিয়া নামে একজনকে ৬২নং প্রকল্পের সদস্য সচিব করা হয়েছে যার হাওরে কোন জমিজমা নেই। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় ভূমিহীন ব্যক্তিকে দিয়ে বাধঁ নির্মান করলে বাধঁ হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং এতে করে কৃষকদের  ক্ষতির সম্ভাবনা ও বেশী থাকে।

অন্যদিকে একই দিনে একই গ্রামের অপর কৃষক দ্বীপক চন্দ্র দাস জেলা প্রশাসক বরাবরে আলাদা আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কৃষক দ্বীপক চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন গত ২ জানুয়ারী তারিখে শাল্লা উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ও মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করা হয় এবং কালিকোটা হাওর উপ- প্রকল্পের আওতায় ৬৫ নং প্রকল্পে কৃষক দ্বীপক চন্দ্র দাসকে সদস্য সচিব হিসাবে নাম ঘোষনা করা হয়। কিন্তু দূভাগ্যে জনক হলেও সত্য কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি জানতে পারেন সভায় সিদ্ধান্তকৃত পিআইসিকে কার্যাদেশ না দিয়ে ৬৫নং প্রকল্প থেকে তাকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে ৬৫নং প্রকল্পের সদস্য সচিব করা হয়েছে। তাদের অভিযোগে প্রকৃত কৃষকের সার্বিকদিক বিবেচনা করে কাবিটা নীতিমালা বর্হিভূত কমিটি বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠনে জেলা প্রশাসকে হস্তক্ষেপ কামনা করেন কৃষক রুহুল আমিন ও দ্বীপক চন্দ্র দাস ।

এ ব্যপারে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম আজাদ বলেন,শাল্লা উপজেলায় প্রথমে যে পিআইসি কমিটির ঘটন করা হয়েছিল প্রকৃত কৃষক আজকের অভিযোগকারী রুহুল আমীন ও দ্বীপক দাসের নাম ছিল। কিন্তু এখন হঠাৎ করে তাদের না জানিয়ে পিআইসি কমিটি থেকে হঠাৎ করে বাদ দেয়াটা হয়তো বা উপরের নিদের্শে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমন নাম পরিবর্তন করেছেন যা নীতিমালার মধ্যে পড়ে না।

এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মোক্তাদিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নীতিমালার আলোকেই এই উপজেলার সবকটি পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  যারা অভিযোগ করেছেন তাদের ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে করে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদ জানান,আমার অফিসে অভিযোগপত্র দিলেও আমার হাতে এখনো আসেনি। নিশ্চয়ই অভিযোগ আমার হাতে আসলে দেখে তদন্ত সপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *