Main Menu

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের পর নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কা বিএনপির

নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপির নেতৃবৃন্দের বড় ধরণের সাজা হলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়বে দল বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একদিকে দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অন্যদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমানের সাজা যদি যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড হয় তবে বিএনপির স্থিতিশীলতায় একটি বড় ঝড় আসবে। ফলে আমাদের প্রত্যেককে ঝড় সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়লে তা থেকে উত্তরণ করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।

রায়ের দুই দিন আগে ৮ অক্টোবর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন। এমন শঙ্কার পাশাপাশি ‘পলাতক’ থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ‘সুবিচার’ প্রাপ্তি নিয়েও ভাবনার অন্ত নেই শীর্ষ নেতাদের।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য সাজা বিষয়ে একই সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নেত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) কারাগারে যাওয়ার পর দলে যেমন পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছিলো, ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিলো- তেমনি তারেক রহমানের সাজার পরে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের প্রত্যেককে বিএনপির নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় ভাঙন ঠেকাতে সজাগ থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে থাকার সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চালানো এই হামলায় প্রাণ হারায় ২৪ জন। আহত হয় শতাধিক মানুষ। সে সময় বিএনপি সরকার এই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা প্রকাশ হয়ে পড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ওই সরকারের সময় পুলিশের তদন্তে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং জোট সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টুসহ ২২ জনের বিচার শুরু হয়। মুফতি হান্নান এ হামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি একাধিক নেতার জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হওয়া ভবনে বসে হয় বলেও জানান।

এখানে উল্লেখ্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর অধিকতর তদন্তে তারেক রহমানসহ নতুন করে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩ জনের ফাঁসি হয়েছে অন্য মামলায়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *