Main Menu

নির্বাচন কেন্দ্রিক সাংগঠনিক তৎপরতা : কেমন প্রার্থী চাই ?

নিউজ ডেস্ক :

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে সাড়ে তিন হাজারেরও অধিক প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তন্মধ্যে চার শতাধিক শিক্ষিত তরুণ রয়েছেন। তাদের অর্ধেকই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। জানা গেছে, এবার জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। আর জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই করতে তিন স্তরের সাংগঠনিক জরিপ চলছে।

বিএনপির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদ নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করতে প্রার্থী ঠিক করার সময় মনোনয়নপ্রত্যাশীর ৬টি গুণ আছে কিনা তা যাচাই করবে দলটি। মনোনয়নপ্রত্যাশীর শুধু অর্থবিত্ত থাকলেই হবে না, তাকে এলাকায় জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত হতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক। থাকতে হবে ব্যক্তিগত ইমেজ, দলের জন্য ত্যাগী হওয়া চাই, তাকে হতে হবে শিক্ষিত ও ভদ্র। সরকারি ও বেসরকারি এবং দলীয় জরিপে যিনি এগিয়ে থাকবেন তিনিই পাবেন দলীয় মনোনয়ন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে-এটা অনেকটাই নিশ্চিত। সে কারণে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে প্রতিটি সংসদীয় আসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেবে ক্ষমতাসীন দলটি। এ জন্য বর্তমান এমপি বা মন্ত্রিপরিষদে থাকা অনেক নেতাই মনোনয়ন থেকে বাদ পড়বেন।

দলীয় মনোনয়নের দিকে তাকিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে অংশ নিতে মুখিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। এখন নিজেদের মাঠ গোছাতে যেমন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তেমনি মনোনয়ন পেতে ছুটছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর লবিংও চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও সম্প্রতি দলীয় এমপিদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে।

দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এর আগে ছয় মাস পরপর সংসদ সদস্যদের অবস্থা এবং দুর্বল আসনগুলোতে বিকল্প কী হতে পারে, তা দেখার জন্য জরিপ করিয়েছেন। এখন তিন মাস পরপর এ জরিপ করানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে মাঠপর্যায়ে দলের কোন্দল এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জনমানুষের দূরত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। আর তাই দেখে শুনে বুঝেই মনোনয়নের টিকেট ছাড়বে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্রমতে, দলের প্রতি অনুগত, ‘গুড ইমেজ’ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রিয় প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি জরিপেও গুরুত্ব পাচ্ছে এগুলো। ইতিমধ্যে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকরা জেলায় জেলায় সফর করে নানা বিষয় ‘তুলে আনছেন। নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বর্তমান এমপিদের অবস্থান উঠে আসছে সাংগঠনিক প্রতিবেদনে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চ্যালেঞ্জের নির্বাচনে মুখ দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দফা দলীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কারও মুখ দেখে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কাউকে পাস করানোর দায়িত্ব তিনি নেবেন না। নিজ যোগ্যতায় প্রার্থীকে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। এ জন্য তিনি নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণের আস্থা হারিয়েছেন, ভালোবাসা হারিয়েছেন তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ যোগ্য, এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসম্পৃক্তা রয়েছে, নিষ্কলুষ ইমেজ আছে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত, ভদ্র ও তরুণ নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক হয়ে ওঠা আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনকে নিয়ে সাবধানে অগ্রসর হতে চায় কেননা, ভুল মনোনয়নে এত দিনের প্রগতি নষ্ট করতে চাইবে না দলটি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *