Main Menu

কারাবন্দী খালেদার দিনকাল কিভাবে কাটছে ?

নিউজ ডেস্ক :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত এবং দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবাসে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদার দেখভাল করার জন্য তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমাও তার সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। দেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের প্রধান এতিমের টাকা আত্নসাৎ করে কারাগারে কিভাবে তার দিনকাল কাটাচ্ছেন তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের শেষ নেই।

কারাবন্দী খালেদার দিনকাল কিভাবে কাটছে তা জানতে এক কারাকর্মকর্তার সাথে কথা বললে ঐ কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারাভোগের প্রথম দিকে খালেদা কিছুটা শান্ত থাকলেও যত দিন যাচ্ছে তিনি তত হতাশাগ্রস্ত হয়ে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের অশান্ত আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমার উপর রাগারাগি করতে দেখা যায়।

কারাবন্দির শুরুর দিকে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে দেখা গেলেও এখন আর আগের মতো খালেদাকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায় না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এছাড়া রমজানের প্রথম কয়েকদিন রোজা পালন করতে দেখা গেলেও পরবর্তীতে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে রোজা পালন থেকে বিরত আছেন খালেদা জিয়া।

তবে খালেদা জিয়া রোজা না রাখলেও প্রতিদিন উন্নতমানের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ইফতার ও সেহেরীতে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা কর্মকর্তা। রমজান মাস উপলক্ষ্যে খালেদা জিয়াকে আরো কিছু বাড়তি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দিনের বেশির ভাগ সময় খালেদা জিয়া শুয়ে কাটান বলে জানা যায়। কিছুটা সময় কাটে ফাতেমার সাথে আড্ডা দিয়ে আর টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করে। এতিমের টাকা আত্নসাৎ করার গুরুতর অপরাধ উপলদ্ধি করে ইদানিং খালেদাকে পরিতাপও করতে দেখা গেছে।

মাঝে মাঝে দেখা করতে আসে কোকোর স্ত্রী-মেয়ে, তারেকের শ্বাশুড়ি এবং তার অন্যান্য স্বজনরা। বিএনপি নেতারাও প্রায়ই আসেন তাদের চেয়ারপারসনের সাথে দেখা করতে। স্বজনদের সাথে দেখা করার সময় খালেদার আচরণে শান্ত ভাব পরিলক্ষিত হলেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা দেখা করতে আসলে তিনি বেশ অশান্ত হয়ে পড়েন। তাদের সাথে দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

খালেদার মুক্তি আন্দোলনের নিষ্ক্রিয়তা, দলের মধ্যে বিভিন্ন ভাঙ্গনের সুর প্রকাশ্যে চলে আসা, লন্ডনে বসে দলের উপর তারেকের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন অযাচিত সিদ্ধান্ত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খালেদাকে বেশিরভাগ সময়ই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে দেখা যায়। এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসে চূড়ান্ত রূপ ধারণ করাতে বিএনপির বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ও ভর করেছে খালেদার উপর।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *