Main Menu

খালেদার কারাবাস : পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: যতই দিন গড়াচ্ছে ততোই দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস। কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে ঠিক কবে মুক্তি পাবেন। ফলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার ইস্যুতে বিএনপিকে পরিকল্পনা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

জানা গেছে, এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত বৈঠকে পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। তবে সে বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত উঠে আসেনি।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় করামুক্তিসহ কুমিল্লার নাশকতা মামলা নিয়েও চিন্তিত বিএনপি। এমনকি আট জনকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার মামলাতেও ইতিমধ্যে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলা। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে আরও ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়িতে নাশকতার মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি, নাইকো দুর্নীতি, ভুয়া জন্মদিন পালন-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। ফলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন মিললেও বাকি মামলাগুলোর জামিন না হলে সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।

এমন বাস্তবতায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচন পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হবে। কারণ বিষয়টি শুধু আদালত নির্ভর নয়, বরং রাজনৈতিকও বটে। এ কারণে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি এখন সামনে চলে আসছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে দলের শীর্ষ নেতাদের মনোভাব দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নেতাদের অনেকেই বলছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে কিছু আসন পাওয়ার জন্য নির্বাচনে গিয়ে লাভ নেই। শুধু কিছু আসন পেয়ে সরকারকে বৈধতা দেওয়াই হবে।

অপরদিকে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি কেমন হবে তা নিয়ে খুবই চিন্তিত বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কারণ দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে যে নরম কর্মসূচি চলছে, তা আমলে নিচ্ছে না সরকার। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের কারোই সহসাই বের হওয়ার লক্ষণও নেই। আবার শক্ত কর্মসূচি দিলে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া হবে। তখন চলবে গণগ্রেফতার, যার মাশুল গুনতে হবে নির্বাচন পর্যন্ত।

যদিও বিএনপি নেতারা গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন হবে এবং ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তার মুক্তি কামনা করে আসছি। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করছে না। তাই দেশের মানুষও আর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেখতে চায় না।

চলমান আন্দোলনে পরিবর্তন চান দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও। তারা মনে করেন, এ আন্দোলন দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে এ মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে নয় তারা। কারণ সামনে রোজা, এরপর ঈদ। এখন কঠোর আন্দোলনে গেলে সাধারণ মানুষ সাড়া দেবে না। তাই ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক খুররম খান চৌধুরী বলেন, নরম কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে না। এজন্য চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বাইরে কর্মসূচিতে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে তার মুক্তি আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করা যায়। আমরা তৃণমূলকে নিয়ে তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত আছি। তবে সেটা অবশ্যই অহিংস কিন্তু ফলপ্রসূ হতে হবে। আমরা আশা করছি অতি দ্রুত পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কেন্দ্র থেকে আমাদের পরবর্তী করণীয় সম্বন্ধে নির্দেশনা দেবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *