Main Menu

আদালতের মাধ্যমেই খালেদাকে মুক্তি পেতে হবে – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাসস >>

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি অন্যায় আমি করেছি। একজন নিরাপরাধ মানুষকে কারাগারে দিয়েছি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে মেইড সারভেন্ট হিসেবে ফাতেমা নামের একজন নিরপরাধ মানুষকে থাকতে হচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও কি এমন নজির আছে। কারাদণ্ড প্রাপ্তের সঙ্গে মেইড সারভেন্ট সরবারাহ করার কোনো নজির নেই পৃথিবীতে নেই। এই বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কোনো কথা বলছে না।

আজ বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তিন দেশ সফরের ওপর প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪ টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাও যদি ফাতেমাকে ভালো টাকা পয়সা দিত কথা ছিল। তাঁকে কত টাকা দেয় একবার জেনে নিবেন।

খালেদা জিয়ার দণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতে অপরাধ প্রমাণ হয়ে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হয়েছে আমি তো তাঁকে জেলে দিইনি। আমার কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। তাঁকে আদালতের মাধ্যমেই মুক্তি পেতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘি সবসময়ই খাঁটি হয়। তেমনি সব রাজনৈতিক দল সব সময়ই বলবে আমরা সবচেয়ে বড় এবং আমরাই নির্বাচনে জয়ী হবো। একথা আমরাও বলবো।

বিএনপি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা একজনকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলো। বিএনপিতে একজন যোগ্য লোক নাই যে বিএনপির দায়ীত্ব গ্রহণ করতে পারে। একজন সাজাপ্রাপ্ত ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামিকে দিয়ে বিএনপি চালাতে হবে।

তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশ থেকে আমরা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে আসি। তারেক নিজেই আসামি আবার সে আন্দোলন করে তাঁর আসামি মাকে মুক্ত করতে।

এর আগে কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে নানা কটুক্তি করা হয়। অসম্মান করে কথা বলা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

নারী অধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারী অধিকার বলে গলা ফাটালেই হবে না। অধিকার অর্জন করে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনোদিন পুরুষ অধিকার আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে। তখন আমি তাঁদের সঙ্গে থাকবো।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিমধ্যেই ফরম ছাড়া হয়েছে। সমঝোতার চেষ্টা হবে। না হলে ভোট হবে। সবসময় যেভাবে হবে সেভাবেই হবে। তবে ভোটে উল্টো পাল্টা আসছে সেটা গ্রহণ করা হবে।

গত ২৯ এপ্রিল গ্লোবাল সামিট অন উইমেন যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ২৭ এপ্রিল সিডনিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সম্মাননা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ১৬ এপ্রিল সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে ২৩ দেশের যৌথ সামরিক মহড়া সমাপনীতে যোগ দেন তিনি। পরে ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ১৯-২০ এপ্রিল লন্ডনে ৫৩ টি দেশের সরকারপ্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কমনওয়েলথ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। আর কমনওয়েলথ নেতারা রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সম্মেলন শেষে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। লন্ডন সফর শেষে স্থানীয় সময় ২২ এপ্রিল রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানটি ২৩ এপ্রিল সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবশ্য দুদিন পরই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী।

ধারণা করা হচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দেশ সফরের ওপর আলোকপাত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দেশের সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *