Main Menu

যেখানে বাকি জীবন কাটাতে আগ্রহী বেগম জিয়া | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্তি এবং শীঘ্রই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সম্ভাব্য সাজাসহ প্রতীক্ষিত আরো বেশ কিছু মামলার জটিলতায় বেগম জিয়ার মুক্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাকি জীবন তাকে জেলেই কাটাতে হতে পারে বলে মনে করছেন খোদ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এমতাবস্থায় আইনজীবীরা মনে করছেন শুধুমাত্র অসুস্থতার অজুহাতে বেগম জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

এ বিষয়ে বেগম জিয়ার একজন আইনজীবী বলেন, বেগম জিয়া আগে থেকেই অসুস্থ একথা প্রায় সকলেরই জানা। কারাগারের নিভৃত কক্ষে বসবাসের ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা রোগ, মনে আসতে পারে অবসাদ। এজন্য প্রয়োজন যথোপযুক্ত চিকিৎসা। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তিনি চিকিৎসার জন্য মনোনীত হলে সরকার তার চিকিৎসা করাতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে তিনি তারেক রহমানের মতো মুক্তি নিয়ে লন্ডনে যেতে পারেন অথবা সৌদি আরবেও একই সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু কোথায় যেতে চান বেগম জিয়া তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ম্যাডামের জন্য বাংলাদেশের বাইরে থাকার মতো উপযুক্ত স্থান হচ্ছে সৌদি আরব। কারণ সৌদি আরবে সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে আটককৃত শাহজাদা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সৌদি আরবে বিপুল সম্পত্তি থাকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। সৌদি রাজপরিবারের সাথে তার সুসম্পর্কের কথাও সর্বজন বিদিত। সেক্ষেত্রে নিজের সম্পদের সদ্ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শেল্টারও তিনি অন্য দেশের তুলনায় বেশি পেতে পারেন। এছাড়া বেগম জিয়া তার বেশিরভাগ চিকিৎসাই সৌদি আরবে করাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই সব দিক থেকে সৌদি আরবই হতে পারে বেগম জিয়ার সবচাইতে পছন্দের জায়গা।

তবে বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। তিনি বয়ষ্ক মানুষ। এ মুহূর্তে তার সুস্থতা এবং পারিবারিক সেবা ও সঙ্গ বেশি প্রয়োজন। বাস্তবতার নিরিখে তিনি ও তার ছেলে দুই জনই আইনের দৃষ্টিতে অসামি এবং তার ছেলে ও নাতী-নাতনীরা লন্ডনে আছেন। এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে সেখানেই চিকিৎসা করিয়েছেন। তাই চিকিৎসার জন্য মুক্তি নিয়ে ম্যাডামের জন্য লন্ডনে যাওয়া উত্তম হবে এবং সম্ভবত তিনি সেখানেই যাবেন বলে মনস্থির করেছেন।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, যেহেতু সামনে নির্বাচন। সরকার বা আদালত নিশ্চয়ই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন- এমন একজন প্রভাবশালী হাই-প্রোফাইলের আসামিকে ছেড়ে দেবে না, যার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সাজা চলমান। তবে একটি হতে পারে, তিনি বিদেশে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য যাবেন মর্মে মুচলেকা দিলে। সেক্ষেত্রে আদালত তার প্যারোলে মুক্তির আদেশ দিতে পারে। যেহেতু তিনি সৌদি আরব ও ব্রিটেনে চিকিৎসা করান তাই মুক্তির পর তার সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে ওই দুটি দেশ।

সর্বশেষ অবস্থা বিবেচনায় বিএনপির জন্য চিকিৎসার অজুহাতে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। অপরদিকে তিনি দেশের বাইরে গেলে পুনরায় দেশে ফিরে না আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়া বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *