Main Menu

যে মুচলেকা দিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া  !

 

ডেস্ক রিপোর্ট :

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কি সত্যি অসুস্থ নাকি রাজনৈতিক কারণে অসুস্থতার নাটক সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বেগম জিয়ার অসুস্থাতা ‘রাজনৈতিক’। এই ‘অসুখ’ তাঁকে সমঝোতায় মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্যই । যদিও একটি সূত্র দাবি করেছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে হবে খালেদা জিয়াকে। এক্ষেত্রে মুচলেকাও দিতে হতে পারে। বিদেশ যাওয়ার আগে আর রাজনীতি করবেন না, এমন মুচলেকাও আদায় করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের নামে দুটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে, খুব শিগগীরই বেগম জিয়ার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন করবেন। তবে, সমঝোতা কখন কিভাবে চূড়ান্ত হবে তা এখনই নিশ্চিত নয়।

বেগম জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে জেল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরা দেবার কথা ছিল। বকশী বাজারের স্থাপিত বিশেষ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় তাকে হাজির করার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেল কর্তৃপক্ষ ‘অসুস্থতা জনিত’ কারণে তাকে আদালতে হাজির করেনি। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় বেগম জিয়ার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে ঐ সাক্ষাত অসুস্থতার কারণে বাতিল করা হয়। শুক্রবার সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছেন বলে জানিয়েছেন কারাগারে তার নিয়মিত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করছেন, তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।

বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দুই ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম তথ্য অনুযায়ী, বেগম জিয়া ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। বুধবার সকাল থেকেই তাঁর জ্বর ধরা পড়ে। এছাড়াও তাঁর ডান হাঁটুর পুরনো ব্যথাও বেড়েছে। জেলের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখতে চাইছেন যে, এই জ্বর কি ভাইরাস জনিত নাকি ডেঙ্গু বা অন্য কিছু। এজন্য কারা চিকিৎসকেরা তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কিন্তু এই সরলীকরণ তথ্য সত্য বলে মেনে নেওয়া যেতো, যদি জেল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতো। তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দেওয়ার প্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই রহস্যে আরও মশলা জুগিয়েছে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাঠানো হবে।’ তাঁর এই বক্তব্যের পর নানা গুজব, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

একাধিক সূত্রে বেগম জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে দ্বিতীয় মত পাওয়া গেছে। ঐ সূত্র মতে, বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার পর থেকেই তাঁর পরিবার সরাকারের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ডন বা সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, বেগম জিয়া প্যারোল নিয়ে বিদেশে যাবেন এবং আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন না। তাঁর বর্তমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এই সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত ৭ মার্চ বেগম জিয়ার সাথে কারাগারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অভাবনীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একাধিক সূত্র দাবী করছে, প্রথমে সমঝোতায় রাজী হলেও পরে বেগম জিয়া পিছিয়ে যান।

তবে, গত মঙ্গলবার থেকে সমঝোতার উদ্যোগ নাটকীয় মোড় নিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আর সে কারনেই বেগম জিয়াকে ‘অসুস্থ’ সাজানো হয়েছে। এই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে জামিন দেয়া হবে এবং সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবারও অনুমতি দেয়া হবে।

সবকিছুই নির্ভর করছে বেগম জিয়ার সিদ্বান্তের উপর। কখনো তিনি রাজী হচ্ছেন, আবার কখনো পিছিয়ে যাচ্ছেন। তবে, বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়ার বিদেশ যাত্রা সময়ের ব্যাপার মাত্র।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *