Main Menu

২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেন

বাংলার দর্পন ডটকম >>

২৩শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অনন্যসাধারণ দিন। এদিন বঙ্গবন্ধু ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। ভোর পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজ হাতে বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেন এবং এরই মাধ্যমে ২৩ বছরের পাঞ্জাবি শাসনের থেকে মুক্তির ঘোষণা আনুষ্ঠানিকতা লাভ করে।

বেলা বারটায় বাসভবনে আগত এক মিছিলের উদ্দ্যেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা নিশ্চয়ই শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালাতে চাই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, কোনো আক্রমণ আমরা সহ্য করব।”

 

বঙ্গবন্ধু আরো বলেন, “সেই ভালো সিপাহশালার যিনি কম রক্তপাতে সফলতা অর্জণ করতে পারেন। গত ২২ দিনের অসহযোগ আন্দোলনে ক্ষমতাসীন চক্রের মাজা ভেঙ্গে দিয়েছি। বাংলাদেশে যেন একটিও শোষণকারী না থাকতে পারে তার জন্য ব্যাপক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

এই দিনটিকে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন নামে পালন করে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দিবসটিকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে। এছাড়া ভাসানী-ন্যাপ স্বাধীন পূর্ব বাংলা দিবস, বাংলা জাতীয় লীগ (অলি আহাদ) স্বাধীন বাংলাদেশ দিবস, কৃষক শ্রমিক পার্টি, লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন দিবস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রত্যক্ষ্ সংগ্রাম দিবস, ফরোয়ার্ড স্টুডেন্ট ব্লক বাংলা দিবস হিসেবে ২৩শে মার্চ পালন করে।

 

এই দিনের কর্মসূচীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলো ‘জয় বাংলা বাহিনীর’ কুচকাওয়াজ ও মহড়া। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘জয় বাংলা’ বাহিনীর দুটি দল যুদ্ধের মহড়া প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ শেষে জয় বাংলা বাহিনী ও উপস্থিত জনতার বিশাল এক অংশ মার্চ করতে করতে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে উপস্থিত হয়। বঙ্গবন্ধু এখানে ‘জয় বাংলা’ বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন।

 

ঘটনাবহুল এদিনে বাংলার ঘরে ঘরে, অফিস-আদালতে বাংলাদেশের পতাকা শোভা পায়। এমনকি ভূট্টো যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উঠেছিল তার শীর্ষদেশেও উড়তে থাকে বাংলাদেশের পতাকা। ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলিও তাদের ভবনের শীর্ষে নতুন পকাকা উড়িয়ে দেয়।

 

দিবসটির প্রধান আকর্ষণ ছিল পৃথিবীর মানচিত্রে এই প্রথম নতুন বাংলাদেশের নতুন পতাকা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *