Main Menu

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় উন্নয়নশীল বাংলাদেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আমাদের প্রাণের স্বদেশ বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বঞ্চনা, সংগ্রাম আর ত্যাগের ইতিহাস। ৪৭ এ দেশ ভাগ হলো। এই ভূখন্ড হলো পাকিস্তানের অংশ। কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ বাঙালিরা পেলো না। শুরু হলো পাকিস্তানি শোষন, নিপীড়ন। বাঙালিরা হলো দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। এই বঞ্চনা, বৈষম্য আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, একাই হিমালয়ের মতো। তিনিই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু এক দ্বীপ্ত কন্ঠে ঘুম ভাঙ্গিয়ে ছিলেন বাঙালি জাতির। উদ্দীপ্ত করেছিলেন অধিকারের জন্য, স্বাধীনতার জন্য। তারপর এক বীরত্ব গাঁথা। পিতার নির্দেশে বাংলা মায়ের দামাল সন্তানরা ছিনিয়ে আনলো লাল সবুজ পতাকা। রক্তের দামে মুক্ত হলো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক মুক্তির পর পিতা ফিরলেন তার প্রিয় মাটিতে এরপর জাতির পিতা ডাক দিলেন অর্থনৈতিক মুক্তির। শুরু হলো দেশ গড়ার সংগ্রাম। কিন্তু ৭১ এর পরাজিত শক্তি ছিল ঘাপটি মেরে। তাঁরা প্রতিশোধ নিলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ হারাল তাঁর প্রতিষ্ঠাতা পিতাকে।

এরপর বাংলাদেশের ইতিহাস এক অন্ধকার ইতিহাস। অধিকারহীন মানুষ। মুখ থুবড়ে পরা গণতন্ত্র আর স্বৈরাচারের উল্লাস। যখন এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে জান্তার বুট আর বুলেট। তখনই বাঙালি জাতির হাল ধরতে এলেন এক প্রতিবাদী মাঝি। জাতির পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি এসেই ডাক দিলেন গণতন্ত্রের, মানুষের মুক্তির। শুরু হলো আরেক সংগ্রাম। দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রামের পর এলো ভোর। জাতি পেলো তাঁর কাঙ্ক্ষিত নেতা। ক্ষুধা, দারিদ্র, অভাব, দুর্ভিক্ষ, সব কিছুকে বিদায় করতে এক সাহসী যোদ্ধার এক বীর গাঁথা।

বাংলাদেশ আজ হাসছে সুখী মানুষের প্রাণস্পন্দনে এই দেশ ভাসছে। স্বপ্নের সীমানা ছড়িয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। উন্নয়নের রোল মডেল।

স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের ইকোসক (ECOSOC) এর পরামর্শক সংস্থা ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করেছে। কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কর্তৃক এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। এই তিনটি শর্ত পূরণ করায় জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে যে বাংলাদেশ আর নিম্ন আয়ের দেশ নয়।

বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১৩১ মার্কিন ডলার। আজ এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। ১৯৭১ এ এদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর, যা আজ প্রায় ৭২ বছর। ১৯৭১ এ ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ২২২ জন। এখন তা প্রতি হাজারে ৩৪ জন। দারিদ্রতা দূরীকরণে বাংলাদেশের সফলতা সারা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।আর রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। পোশাক রপ্তানিক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে। স্বাক্ষরতার হার গত নয় বছরে ৪৪ শতাংশ হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৮ সালের তিন হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অর্জন ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃত। তথ্য প্রযুক্তি বাংলাদেশ একটি বিপ্লবের স্বাক্ষী। বাংলাদেশের এই স্বপ্নপূরণের গল্প পৃথিবীর দারিদ্রপীড়িত রাষ্ট্র গুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণায় উৎস।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। এই তরুণরাই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও টেকসই করে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আজ উন্নয়নের বিপ্লব চলছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প্র, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎ, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, ১২ টি হাই-টেক পার্ক, সারাদেশে ৫০০০ এর বেশি ডিজিটাল সেন্টার-এসবই বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইল ফলক

বাংলাদেশ জুড়ে আজ কর্মচাঞ্চল্য। শিল্পে, কৃষিতে, রপ্তানীতে এক জাগরনের উৎসব। এতসব সফলতার পিছনে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মুক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের। এ কৃতিত্ব বাঙালি জাতির। এই কৃতিত্ব রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার। এই কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর। আর এখনো আমাদের পথ চলা শেষ হয়নি। এখনো আমাদের বহুপথ পাড়ি দিতে হবে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে গতিশীল রাখতে হবে। উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে ২০৪১ এর আগেই আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। তবেই হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা। আমরা জানি এটা আমরা পারবো। কারণ বাঙালি অপারেজয়। বাঙালি জাতি হারে না, হারবেও না, আমরা বিজয়ী।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *