Main Menu

খালেদা জেলে : নীরব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, চিন্তিত বিএনপি

 

 

নিউজ ডেস্কঃ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ১০ দিন গত হলেও প্রতিক্রিয়াহীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। একসময়ে বিএনপির অতি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেশগুলোও যেন বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখবার জন্যই মামলাকে প্রভাবিত করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করার অভিযোগ পেশ করবার পরও বেগম জিয়ার কারাদণ্ড নিয়ে তাদের রহস্যজনক নীরবতা ভাবিয়ে তুলছে বিএনপিকে। বেগম জিয়াকে কারাগারে প্রেরণের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলটির নেতারা কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলাসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা বিষয় কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেছেন। বিকেল ৪টা থেকে রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা ও চীনের কূটনৈতিকরা বৈঠকের পর খালেদার কারাদণ্ড নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করেন। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেল সোয়া ৬টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার কারা অভ্যন্তরীণ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রায় সম্পর্কে ‘বিস্তারিতভাবে’ অবহিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও বৈঠকে বসেছে বিএনপি।

বৈঠক শেষে ঢাকায় সফররত ইইউ-এর সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতা জিন ল্যামবার্ট খালেদা জিয়ার বন্দিদশা প্রসঙ্গে বলেন, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিচারব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পরে না। বেগম খালেদা জিয়ার পার্টি একটি চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বেগম জিয়ার কারাদণ্ড নিয়ে কোনো কথা না বললেও বিএনপিকে নির্বাচন নিয়ে মনোযোগী হবার পরামর্শ দিয়েছেন। বেগম জিয়ার কারাদণ্ড প্রসঙ্গে বিদেশিদের নীরব ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এমনকি জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনবার ক্ষমতায় থাকা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম একটি বড়দল বিএনপি প্রধানের কারাদণ্ড বিষয়ে তাদের নীরবতা সত্যিই রহস্যজনক। আসলে জামায়াতের বিরুদ্ধে লবিষ্ট নিয়োগের মাধ্যমে বিবৃতি আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সেটা তারা করতে পেরেছিল কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের সেই যোগ্যতাও নাই, সেটাই প্রমাণ হলো।

অন্যদিকে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, বিএনপির সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেশ সৌদি আরব, আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান এমনকি বিএনপির দাবীকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট-এর জন্য অর্থ প্রদানকারী দেশ কুয়েতও খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বেগম জিয়ার কারাদণ্ড প্রাপ্তির পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন অপ্রত্যাশিত নীরবতা তাই বিএনপিকে গভীর ভাবনা ও হতাশায় ফেলে দিয়েছে। ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনেও যে তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে না বিএনপি তা বুঝতে পেরেছে বলেই মনে করছেন সমালোচকগণ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *