Main Menu

মোস্তাক ও জিয়ার যোগসুত্রে স্বপরিবারে খুন হয়েছেন জাতির পিতা- শেখ হাসিনা

বাংলার দর্পন ডটকম >>> বাংলাদেশ একজনের নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি বলে যারা মন্তব্য করেন তাদের ইয়াহিয়া খানের বক্তব্য পড়তে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা একজনের নেতৃত্বে হয়নি, তাদের পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খানের বক্তব্য পড়ার পরামর্শ দেব। কেউ কেউ বলতে চেষ্টা করেন একজনের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। একজন তো নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠন নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে গিয়েছেন। মানুষকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলেন একজনের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি তারা কি ইয়াহিয়ার ভাষণ পড়েননি?’ শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। ইয়াহিয়ার ভাষণটা একটু পড়ে দেখেন। তিনি কাকে দোষারোপ করেন। তিনি গ্রেফতার করেছেন বঙ্গবন্ধুকে। বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। অন্য কাউকে তো করেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, যারা ওদের পথ চিনিয়েছিল, মা বোনদের অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ৭৫ এর পর তারাই ক্ষমতায় এসেছিল। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করেন জিয়াউর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা নিল। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। কারাগারে বন্দিদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসান।’

তিনি বলেন, ‘ইত্তেফাকে বসে রশিদ, ফারুক ও হুদাকে দিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করা হয়। জেনারেল এরশাদ খুনি রশিদ ও ফারুককে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি করে। খালেদা জিয়া খুনি রশিদ ও ফারুককে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল। খুনিদের ক্ষমতার সাথী বানিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘অপরাধীকে কেন ঘৃণা করবে না। খুনিদের ক্ষমতায় বসাতে কেন বারবার ষড়যন্ত্র হবে। খুনিদের নিয়ে বারবার কেন খেলা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি আজ ক্ষমতায় আছি। আজ সবাই বিচার চায়। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। রেহানা (শেখ রেহানা) লন্ডনে ছিল। তার পাসপোর্টের সময় শেষ হয়ে যায়। তা রিনিউ করতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। আমরা রিফিউজি হয়ে বিদেশে ছিলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৯ সালে সুইডেনে রেহানা প্রথম প্রতিবাদ করে। ১৯৮০ সালে লন্ডনে যখন যাই, সেখানে প্রথম প্রতিবাদ করি। আমরা তদন্ত কমিশন গঠন করি। প্রবাসী বাঙালিরা সহযোগিতা করে। ওই কমিশনের কাজে স্যার টমাস উইলিয়াম বাংলাদেশে আসতে চাইলেন। জিয়াউর রহমান অনুমতি দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন জিয়াউর রহমান যদি দোষী না হয়, জড়িত না থাকে তবে নিশ্চয়ই তদন্ত করতে দিত। তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হয়। তারা একটা রিপোর্টও দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি। মামলার কোনো অধিকারও নেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘রায় যেদিন ঘোষণা হবে সেদিন বিএনপি হরতাল ডাকে। যেন বিচারক যেতে না পারে। যদি জড়িত না থাকে তবে কেন তারা হরতাল দিল। বিচারককে ধন্যবাদ দেই। অনেক হুমকি সত্ত্বেও তিনি রায় দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতোই বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৯ সালে অত্যাচার করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেয়া হয়। খুনিদের যারা পুরষ্কৃত করে তারা খুনি ছাড়া আর কি?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা ভেবেছিল ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ২০০৮ সালের পর আমরা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচনে না আসে এতে আমাদের কি করার আছে। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’

আওয়ামী সভাপতি বলেন, ‘কী অপরাধ করেছিল আমার মা, ভাই ও তাদের স্ত্রীরা। আমরা দুই বোন কত কষ্টে বেঁচে আছি স্বজন হারিয়ে—সেটা কেবল যারা স্বজন হারিয়েছেন তারাই বুঝবেন। অন্য কাউকে বোঝাতে পারব না এই কষ্ট, এই ব্যথা।’ ‘কাফনের কাপড় কেনারও সময় দেয়া হয়নি। কারফিউ দেয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়। আমার মা ও অন্যান্যদের কোনোমতে বনানী কবরস্থানে মাটি দেয়া হয়।’

দলের নেতাকর্মীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি নেতাকর্মীর এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত কতটুকু কাজ করলাম। কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম। দেশকে যেন দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশ করতে পারি। আমরা এদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এখনো অনেকে আছে যারা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *